আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে হাততালি ও স্লোগান দিলেন কালকিনি থানার ওসি

রফিকুল ইসলাম, মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে(ওসি) আওয়ামী লীগের দলীয় একটি অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের সাথে হাততালি ও স্লোগান দিতে দেখা যায়। আজ সোমবার দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় এ দৃশ্য দেখা যায়। মাদারীপুর -০৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সোবাহান মিয়া গোলাপ নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক স্লোগান দিলে অনুষ্ঠানের মঞ্চের প্রথম সারিতে থাকা কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হাততালি ও স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে সুধী মহল।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কোন দলীয় কর্মসূচীতে মঞ্চে উঠে স্লোগান ও হাততালী দেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) জানান, আইন আপনি দেখেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যর অনুষ্ঠানে থাকা কোন অন্যায় না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মাদারীপুর -০৩ (কালকিনি-ডাসার) সংসদ সদস্য ড. আব্দুস সোবাহান মিয়া গোলাপ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কালকিনি পৌর মেয়র এস এম হানিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল বাসার, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার লোকমান হোসেন,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল বাসার,কালকিনি থানা অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হাসান,উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চায়না খানমসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপ বলেন, অবরোধ আর গাড়ি পুড়িয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো যাবে না, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী দল। নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, সংসদ সদস্যের কর্মসূচীতে গিয়ে তার নিরাপত্তা ও আইন শৃংক্ষলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য যেতে হয়। মঞ্চে ওঠা ও স্লোগান দেয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এগুলো নিষেধ কি না তিনি জানেন না। সাংবাদিকদের আইন দেখে নিতে বলেন।

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি ইয়াকুব খান শিশির বলেন, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীর এমন আচরণ কাম্য নয়। তার নিরপেক্ষ থাকাটা জরুরী বলে মনে করি। বিষয়টি আমলে নেয়া দরকার।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। ঘটনা সত্যি হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ